Posted by Unknown On 11:57:00 am No comments



গতকাল ২০ই নভেম্বর থেকে দিল্লীতে আয়োজিত সিপিএম ও সিপিআইয়ের উদ্যোগে সারা পৃথিবীর কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টিগুলির আন্তর্জাতিক সন্মেলন শুরু হল । প্রধান আলোচনার বিষয় বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা । কমিউনিস্টদের বক্তব্য, এর জন্য দায়ী মুক্ত অর্থনীতি। মন্দার প্রভাবে মার্কিন পুঁজিবাদ ও মুক্ত অর্থনীতি যে ভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তাতে কমিউনিস্টরা খুবই উল্লসিত। পুঁজিবাদী এই সঙ্কট থেকে মুক্তির জন্য বিকল্প কী নীতি তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে গভীর আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে তিনদিনের এই সন্মেলনে।
এছাড়াও, লোকসভা থেকে শুরু করে পরপর বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে সিপিএম-সিপিআইয়ের। তবুও এদেশের কমিউনিস্টদের কাছে নির্বাচনী লড়াই শিখতে চান মার্কিন কমিউনিস্টরা।
নির্বাচনী ফলের হিসেবে প্রকাশ কারাট ও এ বি বর্ধনের দল ক্রমশ পিছিয়ে পড়া সত্ত্বেও মার্কিন কমিউনিস্টদের মতে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলি ভোটে যে ভাবে জোরদার লড়াই করে, তা শেখার মতো। মার্কিন কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংগঠনের শ্রমিক কমিশনের প্রধান স্কট মার্শালের মতে, “ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির নির্বাচনী সংগ্রাম সকলের কাছে শিক্ষণীয়”। মার্কিন কমিউনিস্ট পার্টিও মন্দার জন্য মার্কিন নীতিকেই দায়ী করেছেন। স্কটের মতে, মন্দা কাটানোর দাওয়াই হিসেবে কর্পোরেট সংস্থাকে অর্থসাহায্য না করে মার্কিন সরকারের পরিকাঠামো বা সামাজিক সুরক্ষায় বেশী লগ্নি করা উচিত। ওবামা সরকারের উপর কিছুটা ভরসা করছেন তাঁরা। স্কট আরও বলেন, “ওবামা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনের বিরুদ্ধে নয়। তিনি আসার পর আমেরিকাতেও কমিউনিস্ট বা সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন বেশি জায়গা পাচ্ছে। ” সিপিএম নেতা বিমান বসু বলেন, সব দেশের কমিউনিস্টদের মধ্যে একটি সাধারন সূত্র খুঁজে বার করাই এই সন্মেলনের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন,”নিজের দেশের প্রেক্ষিত বুঝে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য রুখতে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে আরও সংহত করাই এর লক্ষ্য।”
বিভিন্ন কমিউনিস্ট নেতাদের বক্তব্যই পুঁজিবাদ ও মুক্ত অর্থনীতির বিরুদ্ধে। অথচ এই সন্মেলনে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হছে। এই আর্থিক সংকট নিয়ে যাঁরা বারবার সচেতনতার জন্য বিভিন্ন কথা বলছেন, অথচ তাঁরাই এত টাকা ব্যয় করেন কী করে ? এটা কী দ্বিচারিতা নয়।

0 comments:

Post a Comment